জুলাই আন্দোলনে নিহত এমদাদুল হকের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পিরোজপুর জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল হক। এ উপলক্ষে দেওয়া এক স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, “শহীদদের রক্ত ফ্যাসিবাদের মসনদ ভেঙে মজলুমের বিজয় নিশ্চিত করবে।”
মোহাম্মদ জহিরুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ঢাকার রামপুরা এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এমদাদুল হক। পরদিন ২১ জুলাই সকাল ৯টায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া বাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ধাওয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তৎকালীন খতিব মাওলানা আশরাফ আলী ডাকুয়া।
স্মৃতিচারণে জহিরুল হক বলেন, ২০ জুলাই রাতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমদাদুল হকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি নিশ্চিত হন যে তাঁর বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নে। এরপর স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোসল, কাফন, দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি দাবি করেন, সে সময় চলমান কারফিউ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি পিরোজপুর থেকে ভান্ডারিয়ায় জানাজায় অংশ নিতে রওনা হন এবং পথে একাধিক পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রম করে এমদাদুল হকের বাড়িতে পৌঁছান।
জহিরুল হকের বক্তব্য অনুযায়ী, জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে তিনি, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আমির হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোফাজ্জল হোসেনসহ অন্যরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তিনি আরও বলেন, দাফন শেষে স্থানীয় নেতারা নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে দ্রুত স্থান ত্যাগের পরামর্শ দেন। পরে বিকল্প পথে তিনি পিরোজপুরে ফিরে আসেন।
এমদাদুল হকের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাবলি ও বক্তব্য মোহাম্মদ জহিরুল হকের স্মৃতিচারণ ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST