ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়ার বকুলতলায় অবস্থিত আন নাজাত মডেল মাদ্রাসা শিশুর মনোবিকাশ, চরিত্র গঠন ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে ব্যতিক্রমী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি একটি অলাভজনক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা আন নাজাত ট্রাস্টিবোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
২০২২ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্লে, নার্সারি, কেজি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ফজলুল হক লিটু এবং একাডেমিক পরিচালক মনিরুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ, মনোযোগ ও শেখার ধরনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। Child Psychology-based Learning, Brain Development Program ও Activity-based Learning-এর পাশাপাশি Spoken English ও Spoken Arabic, কুরআন-হাদিস, ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে বিভিন্ন গেম ও কার্যক্রমভিত্তিক অনুশীলন করানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের Child Psychology, Effective Class Taking ও Lesson Planning বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ রয়েছে। অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করতে আয়োজন করা হয় Parenting Workshop।
শিক্ষার্থীদের ফলাফলও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৬ সালের ইবতেদায়ি সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় ৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮ জনই সরকারি বৃত্তি লাভ করেছে। এছাড়া জেলার প্রথম মাদ্রাসা হিসেবে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হয়ে জেনারেল স্কুলের সঙ্গে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ বছর ৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ জন মেধাবৃত্তি লাভ করেছে।
অভিভাবক আক্তারুজ্জামান বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানদের নৈতিকতা ও আচরণগত উন্নয়নে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে আমরা সন্তুষ্ট।
অভিভাবক আসাদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও শিশুদের প্রতি যত্নশীল আচরণ আমাদের ভালো লাগে। সন্তানদের শেখার আগ্রহও বেড়েছে।
শিক্ষার্থী আফরা মেহজাবিন বলে, মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম করতে ভালো লাগে। শিক্ষকরা আমাদের খুব যত্ন নিয়ে পড়ান।
শিক্ষার্থী কাজী সালমান বলে, এখানে পড়াশোনা করতে আমার ভালো লাগে। খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক কিছু সহজে শেখানো হয়।
আন নাজাত ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ফজলুল হক লিটু বলেন, শিশুদের শুধু পরীক্ষামুখী শিক্ষা নয়, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
একাডেমিক পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি শিশুর শেখার ধরন আলাদা। তাই শিশুর মনস্তত্ত্ব বুঝে আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST