মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন ১২ বছরের কন্যা সন্তানের জননী। দাবি না মানলে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ) বেলা ১১টা থেকে উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ষোলঘর সদারামপুর গ্রামে প্রেমিক সুশান্ত দাসের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই সুশান্ত আত্মগোপনে রয়েছেন।
সুশান্ত দাস (৩৮) ওই গ্রামের স্বপন দাসের ছেলে। ভুক্তভোগী বিথী রানী রাজবংশী একই গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, প্রেমিকা বিথী রানী রাজবংশীর সাথে প্রেমিক সুশান্ত দাসের বিয়ের আগেই থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৩ বছর পূর্বে বিথীর মা-বাবা বিথীকে অন্যত্র বিয়ে দেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পরও প্রেমিক সুশান্ত প্রেমিকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করত।
ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর আমার স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে সুশান্ত আমার সাথে যোগাযোগ করত। গত তিন বছর পূর্বে অসুস্থতার কারণে আমার স্বামী মারা যান। এর পর থেকে সুশান্তর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক
আরো গভীর হয়। এই বিষয়ে জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস হয়। শালিসে সিদ্ধান্ত হয় যে, ভবিষ্যতে কেউ কারো সাথে আর সম্পর্ক রাখতে পারবে না। পুনরায সম্পর্ক করলে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হবে। শালিসের মাস দেড় পর সুশান্ত মালয়েশিয়া চলে যায় এবং নিষেধ না মানা সত্বেও পূনরায় সে আমার সাথে যোগাযোগ অব্যহত রাখে। গত ৮ মাস পূর্বে সুশান্ত দাস আমাকে ফোন দিয়ে বলে তার ছোট ভাই হৃদয় পর্তুগালে যাবে। আমাকে ৫ লক্ষ টাকা দাও আমি বিদেশ থেকে এসে তোমাকে বিয়ে করবো। পরে সুশান্তের বিয়ের আশ্বাসে আমি হৃদয়ের কাছে ৫ লক্ষ টাকা দেই। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুশান্ত দেশে আসে এবং আমাকে বিয়ে করবে বলে তার জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কপি দেন এবং আমাকে নিয়ে নিমতলাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে। গত দুইদিন যাবত সে আমার ফোন ধরছে না এবং নাম্বার বক্ল করে রেখেছে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, সুশান্ত দাসের বিয়ের আশ্বাসে তাকে টাকা দেয়া হয়েছে। এখন তাকে গ্রহণ না করলে তার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দাবি আদায় না হলে তিনি সুশান্তের বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।
এদিকে ঘটনার পর থেকে সুশান্ত দাস পলাতক থাকায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST