শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতে শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সচেতন মহলের টানা প্রতিবাদের মুখে অবশেষে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছেন ১১-দলীয় ঐক্যের আয়োজকেরা। শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে সমাবেশের জেদ ছেড়ে তারা জেলা স্টেডিয়াম (শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম)-কে সমাবেশের নতুন স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
আগামী ৩১ অক্টোবরের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার সকাল থেকেই কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্যান্ডেল-মঞ্চ নির্মাণের কাজ।
জিলা স্কুল ঘিরে জটিলতা ও প্রশাসনিক মধ্যস্থতা
১১-দলীয় ঐক্য প্রথমে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে তাদের লংমার্চের সমাপনী মহাসমাবেশ আয়োজন করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু একটি সক্রিয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচির খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। “শিক্ষাঙ্গন থাকুক শুধুই শিক্ষার্থীদের জন্য”—এই দাবিতে সামাজিক মাধ্যমসহ মাঠে সোচ্চার হন ছাত্র-জনতা।
স্থানীয় সূত্র ও সচেতন মহল সূত্রে জানা যায়, মূলত ৩টি প্রধান কারণে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল:
১.শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষা: ক্লাস ও পরীক্ষার সূচি চলাকালীন বড় ধরণের রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হতো।
২.অবকাঠামো ও নিরাপত্তাশঙ্কা: শতবর্ষী এ বিদ্যাপীঠের অবকাঠামোগত ক্ষতি রোধ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
৩.জনপ্রশাসনের পদক্ষেপ: অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আয়োজকদের বিকল্প ও উন্মুক্ত ভেন্যুতে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানায়।
স্টেডিয়ামে আজকের কর্মব্যস্ততা ও প্রস্তুতি
প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমতির পর আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলগুলো শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
আজ মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে বিশাল আকৃতির প্রধান মঞ্চ ও কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেম বসানোর কাজ চলছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য মাঠের বড় অংশে সামিয়ানা টানানো হচ্ছে। বড় পরিসরের এই ভেন্যুতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতামত:
রাজনৈতিক দলগুলোর বড় কর্মসূচির ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গন এড়িয়ে স্টেডিয়াম বা উন্মুক্ত ময়দান ব্যবহারের এই সিদ্ধান্তকে কুষ্টিয়ার সুশীল সমাজ ও অভিভাবক মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনদাবি ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের এই সচেতনতা বাংলাদেশের ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST