আলু উৎপাদনে দেশের বৃহতম জেলা হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ। পাইকারী বাজারে কম দামে আলু বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। জেলার হিমাগারগুলোতে প্রকারভেদে বর্তমান আলু প্রতি কেজি যে দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। আলু রেখে মোটা অংকের লোকসানে পড়েছে আলু ব্যবসায়ী, হিমাগার মালিক ও চাষীরা। পাইকারি বাজারে আলুর দাম ও চাহিদা না থাকায় তাদের বিশাল অংকের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
মৌসুমের শুরুর দিকে দাম পেয়েও আলু বিক্রি না করে অধিক লাভের আশায় হিমাগারে মজুত করে এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেকায়দায় পড়েছেন। এমন দর পতনের কারণে হিমাগারগুলোতে বর্তমানে ভরা মৌসুমে কৃষক ও ব্যবসায়ীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ ছিল, এবার তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি আলু সংরক্ষণ করেছে। এদিকে বাজারে বর্তমানে সবছিুরই দাম হু হু করে বাড়লেও বাড়েনি আলুর দাম। এ পরিস্থিতিতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া আর আলু কেনার সময়ে ব্যবসায়ীকে ঋণ দেওয়ার টাকা আদায় করতে না পেয়ে বিপদে পড়েছেন হিমাগার মালিকরা।
চাষী, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর ভাল দাম পাওয়ার আশায় মৌসুমের শুরুতে বিক্রি না করে এবার হিমাগারে আলু মজুদ বেশি করেছে। গড়ে বস্তা প্রতি লোকসান গুণতে হচ্ছে ২শ’৫০ টাকা। বাজারে আলুর যে দাম তাতে আরও মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে। সাথে আলু কিনতে ব্যবসায়ীদের দেওয়া ঋণের টাকা এবং আলু রাখার ভাড়ার টাকা ওঠাতে বড় বেকায়দায় পড়েছে হিমাগার মালিকরা। লোকসান ঠেকাতে আলু রপ্তানির দাবি জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।
হাট-বাজার ও হিমাগারগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে একই অবস্থা। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পয়সা কোল্ড স্টোরেজের কর্মকর্তা শরিফ জানান, জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির কারনে সারা দেশে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হলেও আলুর দাম দিনদিন কমেই যাচ্ছে। এ কারনে চাষী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি লোকসান গুণতে হচ্ছে হিমাগার মালিকদের। এ অবস্থা চলতে থাকলে হিমাগার মালিকদের আরো বেশি লোকসান গুনতে হবে।এ বছর আলুর ভালো দাম পাবার আশায় চাষিরা আলু চাষে ঝুঁকে পড়েন। শুধু চাষীরাই নয় ব্যবসায়ীরাও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলুর চাষ করেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে হিমাগার মালিকদের কাছ থেকে এ বছর লাভের আশায় ঋণের টাকা নিয়ে জেলার বিভিন্ন হিমাগারে আলু রাখেন। মৌসুমের শুরুতে এসব হিমাগারে লাখ লাখ বস্তা আলু আজও মজুত রয়েছে। গত বছর এই সময়ের মধ্যে মজুতের প্রায় ৪০ ভাগ আলু বিক্রি হলেও বর্তমানে ২০ ভাগ আলু বিক্রি হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলার ব্যবসায়ী বাবুল ব্যাপারী বলেন, গত বছর ভেবেছিলাম আলুর দাম বেশি পাওয়া যাবে লাভের মুখ দেখবো। তাই এ বছর ঋণ নিয়ে দেশি পাকড়ী লাল জাতের সাড়ে ৩ হাজার বস্তা, ষ্টিক লাল জাতের ১১ হাজার বস্তা এলাকার কয়েকটি হিমাগারে রেখেছি। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা তাতে এই মহূর্তে আলুগুলো বিক্রি প্রায় ৩৮ লাখ টাকা লোকসান হবে।
লৌহজং উপজেলার গাওদিয়ার কৃষক আকতার মিয়া বলেন, এবার আলু নিয়ে বড় বিপদে আছি। মৌসুমের শুরুতে আলু বিক্রি না করে কেন হিমাগারে রাখলাম এ নিয়ে ই এখন চিন্তায় আছি তিনি বলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আলু প্রক্রিয়া করন ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আলুর দরপতন ঠেকানো সম্ভব হতো।