
মোহাম্মদ জাকরি লস্কর:
অবাধে বিক্রি হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। পলিথিন বন্ধ করতে হলে আগে উৎপাদন পর্যায়ে বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া পলিথিনের বিকল্প অন্য কোনো ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে না, কীভাবে দেওয়া হবে। ফলে নিরুপায় হয়ে পলিথিনেই করেই মালামাল দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা যদি ব্যাগ নিয়ে আসেন, বিক্রেতারা তো সেই ব্যাগেই জিনিসপত্র দেবেন। কিন্তু কোনো ক্রেতাকে তো পাটের ব্যাগ আনতে দেখা যাচ্ছে না। দেশের কাঁচাবাজারসহ খোলাবাজারে ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তিন দিন পেরোলেও তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। গত দেড় মাস আগে এই পলিথিন নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েও বাজারে থেকে এখনও উঠেনি ক্ষতিকর এই পণ্য।
মুন্সীগঞ্জের কাঁচাবাজার থেকে পাড়া-মহল্লায় অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। এমনকি অনেক দোকানে বিকল্প ব্যাগ রাখতেও দেখা যায়নি। ফলে ক্রেতাদের পলিথিনে করেই কাঁচাবাজার নিয়ে যেতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের এ অভ্যাস পরিবর্তনে সময় প্রয়োজন, বলছেন ক্রেতারা। উৎপাদন বন্ধ করে সরবরাহ কমানোর পাশাপাশি স্বল্প মূল্যে বিকল্প ব্যাগ বাজারে রাখার তাগিদ তাদের। এখনো বাজারে দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। মুদি দোকান, সবজি বিক্রেতা, মাছ-মাংসের বাজার, খাবারের হোটেলসহ সব স্থানেই ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। বাজারের কোথাও ক্রেতা-বিক্রেতার হাতে দেখা যায়নি পাটের ব্যাগ কিংবা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ।
ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীরা জানান, পলিথিন বন্ধ হওয়া উচিত, সেটা সবাই জানেন। কিন্তু মানেন না, আগে সবাই কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতেন। যখন পলিথিন বের হলো তখন কাপড়ের ব্যাগ চলে গেল। তখন মালামাল নিতে ব্যাগ নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হতো না। ক্রেতারাই ব্যাগ নিয়ে আসতেন। এখন যদি বলি ব্যাগ নেই। তাহলে ক্রেতা চলে যায়। তাই বাধ্য হয়েই পলিথিন রাখতে হয়। আর দীর্ঘ দিনের অভ্যাস তো আর দুই-চার দিনে চলে যাবে না।
একজন ক্রেতা যদি ১০০ টাকার জিনিসপত্র নেন, তাকে যদি আমি ২০ টাকার ব্যাগ দেওয়া হয়, তাহলে দোকানদার লাভ করব কী? হ্যাঁ, ক্রেতারা যদি ব্যাগের টাকা দেন, তাহলে দোকানদারের পোষাবে। দোকানদারের প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পলিথিন লাগে। এর বিপরীত কোথাও থেকে যে পাটের ব্যাগ কিনব সেই ব্যবস্থাতো নেই। ব্যাগ পেলে দোকানে ব্যাগ ঝুলিয়ে রাখতো।
দোকানদারের স্টকে যে পলিথিন আছে, তা-ই বিক্রি করছি। দুই এক দিন পর আর বিক্রি করতে পারব না। আমরা যদি পাইকারি বাজারে পলিথিন না পাই, তাহলে বিক্রি করব কোথা থেকে। পলিথিন বন্ধ করতে হলে আগে উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।
একইসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজারে বাজারে অভিযান না চালিয়ে যেখানে উৎপাদন হয় সেসব কারখানায় অভিযান চালানো উচিত। উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ করতে পারলে সরবরাহ কমে যাবে। তখন এমনিতেই পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST