রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একটি ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সীমানায় মরা পদ্মা নদীর ওপর পারাপারের একমাত্র মাধ্যম এখন খেয়া নৌকা। তবে নদীজুড়ে ঘন কচুরিপানার কারণে প্রায়ই এই যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। গোয়ালন্দ উপজেলা শহর, জামতলার হাট, মমিন খাঁর হাটসহ ফরিদপুর শহরের সাথে অবহেলিত চরবাসীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে আমূল বদলে যাবে এলাকার কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে এখানে ২৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরেও সেই প্রস্তাবের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উজানচর হাবিল মন্ডল পাড়া ও দরাপের ডাঙ্গী এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যাচ্ছে। সময়মতো নৌকা না পেলে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ঘাটে আধা ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মাকে নিয়ে ঘাটে অপেক্ষারত রমজান শেখ বলেন, “একটি ব্রিজের অভাবে জরুরি চিকিৎসার জন্য সময়মতো শহরে যাওয়া যায় না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
ঘাটের মাঝি রহমান শেখ বলেন, “দ্যাশে এ্যাত উন্নতি অইল, কিন্তু আমাগো এহানে একখান ব্রিজ অইলো না। ব্রিজটা অইলে হগ্গলের দুঃখ-কষ্ট দূর অইয়া যাইত।”
স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী মন্ডল আক্ষেপ করে বলেন, “ব্রিজের জন্য বহু বছর ধরে চেষ্টা করছি। সাবেক এমপি বারবার ওয়াদা দিয়েও কথা রাখেননি। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত এখানে ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতদিনেও এটি না হওয়া দুঃখজনক। চরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST