০৭ জুলাই ২০২৬
একসময় গ্রামের বন জঙ্গল, রাস্তার পাশ ও পতিত জমিতে অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে উঠত আঁশফল গাছ । কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্ত্ন, দ্রুত নগরয়ন এবং বনভূমি উজাড় হওয়ার ফলে বর্তমানে এই ফলটি দুষ্প্যাপ্য হয়ে উঠছে । বন জঙ্গল থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া উপক্রম হয়েছে এই বনজ ফল । আঁশফল গ্রাম বাংলার পরিচিত একটি ফল । অকেই একে গরীবের লিচু বলে থাকেন । গোল আকার এই ফলের শাঁস সাদা রসালো ও অত্যন্ত মিস্টি । জৈষ্ঠৈার শেষ ভাগ থেকে আষাড়ের শুরুতে ফলটি পাকতে শুরু করে । বর্তমানে নড়াইলের বিভিন্ন হাটবাজারে উঠতৈ শুরু করেছে রসালো আশফল। এলাকাভেদে আশফল ”কাঠ লিচু” বা “লংগান” নামে পরিচিত । থোকাই থোকাই গাছে ঝুলে থাকা ফলটি দেখতে লিচুর মতো হলেও আকারে ছোট এবং রসাল অংশ তুলনামূলক কম। আশফল গাছ একটি মধ্যম আকারের চিরসবুজ বৃক্ষ, যা সাধারণ ৬ থেকে ১০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে । বেলে মাটিতে এই গাছ ভালো জন্মে । তবে সাম্প্রতিক দশকে আপেল কমলা আঙ্গুর ও লিচুর মতো ফলের জনিপ্রিয়তা বাড়া্য় আশফলের কদর কিছুটা কমে যায়। ফলের খোসা বাদামি রঙ্গের এবং গোল আকার । আকারে ছোট হলেও এর শাস অনেকটা লিচুর মতো । অনেকের মতে আশফল লিচুর থেকে বেশি মিষ্টি । ফলের সাদা চকচকে শাসের ভেতরে থাকে কালো বীজ ,যা সহজে আলাদা করা যায় । আঁশফলের বীজ থেকে চারা গাছ উথপাদন করা গেলেও মাতৃগাছের সব বৈশিষ্ঠ্য বজায় থাকে না এবং ফল ধরতে দীর্ঘ সময় লাগে । তাই গুটি কলমের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা আধিক কার্কাফলর বলে মনে করেন কৃষিবিদরা ।
বাংলাদেশের কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট (বারি ) ইতি মধ্যে বারি আঁশফল-১ ও বারি আঁশফল-২ নামে উন্নত জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করেছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষের জন্য উন্মক্ত করা হয়েছে । পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ আঁশফল এতে বিভিন্ন খনিজ উপাদান, শর্করা ও ভিটামিন সি রয়েছে । আঁশফলের শুকনো শাস থেকে ভেষজ ঔষুধ ও তৈরি করা যায় । অবসাধ দূর করা,হ্রদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখা এবং সুস্থথায় সহায়ক ভূমিকা রাখায় এই ফলের সুনাম রয়েছে । বর্তমান স্থানীয় বাজারে প্রিতি ১০০টি আঁশফল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে । আশফল পাকতে শুরু করলে দ্রুত না পাড়লে ঝরে পড়বে । আবার বাদুর একবার টের পেলে এক রাতেই প্রায় সব ফল খেয়ে ফেলে । তাই অনেকেই গাছে নেট দিয়ে ফল রক্ষা করে । বর্তমান বাজারে এর চাহিদা বাড়ায় ব্যাবসায়িরাও লাভবান হচ্ছেন ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST