চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব নাউরি এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই আশ্রম মন্দির প্রাঙ্গণে রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটি স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্দির দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অখিল চন্দ্র লিটন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিচালনা কমিটি নিয়মিতভাবে মন্দির পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও স্থানীয় শ্রী সুনীল চন্দ্র দেবনাথ তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুনীল চন্দ্র দেবনাথ মন্দিরে ভক্তদের যাতায়াত ও পূজা-অর্চনায় বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন এবং মন্দির দখলের পাঁয়তারা করছেন। এসব কারণে মন্দিরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন চন্দ্রশীল বলেন, বর্তমান কমিটির মাধ্যমে মন্দিরের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু সুনীল চন্দ্র দেবনাথ একের পর এক থানায় ও আদালতে মিথ্যা মামলা করে কমিটিকে হয়রানি করছেন। এতে মন্দির পরিচালনায় চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুনীল চন্দ্র দেবনাথ মন্দিরের জমি নিজের নামে দাবি করার চেষ্টা করছেন। এ উদ্দেশ্যে অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করে মন্দিরের জমি নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে মন্দিরের সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবু বলরাম গোস্বামী বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি মন্দিরটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অতীতে মন্দিরটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত বিরোধের কারণে পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, যা মন্দিরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অভিযুক্ত শ্রী সুনীল চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। যা বলার কাগজে বলব।
সংবাদ সম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ভক্তবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।