ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন পদ্মাকর ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাসস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস। রোববার রাতে সদর উপজেলার ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের ধানহাড়িয়া এলাকায় মেসার্স শরিফুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
বিকাশ বিশ্বাস সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে তিনি বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ইউপি নির্বাচনে জয়ী হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বিকাশ বিশ্বাস মোটরসাইকেলের জ্বালানি নিতে ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় সেখানে দীর্ঘ লাইন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি লাইনে না দাঁড়িয়ে উল্টো পথে প্রবেশের চেষ্টা করলে অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ করে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় ও জামা ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
তবে বিকাশ বিশ্বাস দাবি করেন, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ রোকনুজ্জামানসহ ১০-১২ জন মিলে তার ওপর হামলা করেন। তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে হাটগোপালপুর বাজারে একটি সালিসকে কেন্দ্র করে রোকনুজ্জামানের সঙ্গে আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই তিনি পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। ঘটনার সময় আমার সঙ্গে আমার নাতি ছিল, সে ভয়ে কান্নাকাটি করেছে। মানসম্মানের কারণে বিষয়টি নিয়ে আগে কিছু বলিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়ার চেষ্টা করায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকাররা তাকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন,আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। তবে লোকমুখে শুনেছি ওই চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দুঃখজনক।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন জানান, ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST