সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মিছিলের অভিযোগে সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতসহ ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহাজাহান খন্দকার । তিনি উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বাঙালভিটা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনায় ৪৮ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় নামীয় আসামিরা হলেন- এখলাছুর রহমান তারা মিয়া, আজিজুল হক, এমরান হোসেন বিপক, রাজন মিয়া, রাজন চন্দ্র, রোমান মিয়া, সাজিদ মিয়া, সুজন মিয়া, জুয়েল আখঞ্জী, সুজিত, শাহিন মিয়া, ইমন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, মহিবুর রহমান, নজির হোসেন, আল আমিন, মুশাহিদ হোসেন রানু, হাসান মিয়া, জাবের আহমদ, শামীম আহমদ, সেলিম ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, শাকিল আহমদ লিজান, জুনায়েদ মিয়া, কাদের পাশা, আলী হোসেন, শাহজাহান চৌধুরী, জাহাঙ্গীর মিয়া, ইকবাল হোসেন, সোহাগ মিয়া, রাসেল, ফারুক মিয়া, কবির মিয়া, সাজ্জাত, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, আঙ্গুর মিয়া, এমরুল হাসান, মিয়া হোসেন, লিমন মিয়া, লিক্সন মিয়া, জাহেদ মিয়া, জোটন রায় জনি, আব্দুল আমিন, জিলানী, জাহেদ মিয়া, রাসেল আহমেদ, কবির মিয়া ও সজিব।
মামলায় আসামি হওয়া শওকত হাসান সৈকত দৈনিক কালবেলা ও আরটিভির তাহিরপুর প্রতিনিধি*। তার বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামে। তিনি মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।
শওকত হাসান সৈকত বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য থানার একটি ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনের দাবি জানাই।”
একজন কর্মরত সাংবাদিককে মামলায় আসামি করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না থাকলে তাকে আসামি করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুদ্দিন শাহিন বলেন, “স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST