মুন্সীগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ২১৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪ জন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নতুন ভর্তি হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৪ জন, টংগীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গজারিয়ায় ২ জন, লৌহজংয়ে ২ জন এবং সিরাজদিখানে ১ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭২ জনের মধ্যে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৫৪ জন, টংগীবাড়ীতে ৬ জন, লৌহজংয়ে ৪ জন, সিরাজদিখানে ৩ জন, শ্রীনগরে ৩ জন এবং গজারিয়ায় ২ জন রয়েছেন।
আগস্টে সর্বোচ্চ আক্রান্ত
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে একাই ৯১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। জুলাইয়ে আক্রান্ত হন ৫৫৬ জন। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২১ জনে।
মাসভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা হলো—জানুয়ারিতে ২৯, ফেব্রুয়ারিতে ১৩, মার্চে ২১, এপ্রিলে ৪৮, মে মাসে ৪৪, জুনে ১৭২, জুলাইয়ে ৫৫৬, আগস্টে ৯১৪ এবং সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৪২১ জন।
বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। এখানে মোট ১ হাজার ৮০২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া গজারিয়ায় ১৩১, টংগীবাড়ীতে ১০৬, সিরাজদিখানে ৮৫, শ্রীনগরে ৫৭ এবং লৌহজংয়ে ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST