মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পরিচালিত এক মোবাইল কোর্ট অভিযানে আটক করা দুটি বাল্কহেড নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৩১ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে, যখন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের অভিযোগে বাল্কহেড দুটি জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তার। তিনি জানান, সরকারি কাজের অজুহাতে বালু পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে বৈধ কাগজপত্র চাইলে তারা একটি রসিদ প্রদর্শন করে। তবে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, সেটি ৩ মার্চের পুরোনো রসিদ, যা ৩১ মার্চের ঘটনার প্রেক্ষিতে অকার্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো হালনাগাদ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। অভিযোগ রয়েছে, আইয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি বালুগুলো ঢাকায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তার পক্ষ থেকেও বৈধ রসিদের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মোবাইল কোর্ট অভিযানে জড়িত তিনজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা বালুর পরিমাণ আনুমানিক ২০ হাজার ঘনফুট, যা দুটি বাল্কহেডে রাখা ছিল। বাল্কহেডগুলো পরবর্তীতে লৌহজং থানার এসআই সাচ্চু মিয়ার জিম্মায় রাখা হয়, যিনি মোবাইল কোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ইসমাইল জানান, ২ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত তার নিয়োজিত চৌকিদার ঘটনাস্থলে পাহারায় ছিলেন এবং সকাল ১০টা পর্যন্ত বাল্কহেড দুটি সেখানে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ করেই সেগুলো নিখোঁজ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানার ওপর থাকলেও সেখানে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন দায়িত্বে থাকা চৌকিদার মোঃ রাজু।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কীভাবে জব্দকৃত বাল্কহেড জনসম্মুখ থেকে উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST