সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পরদিন ২৩টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভয়ে প্রতিপক্ষের পুরুষ সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাওয়ার সুযোগে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ১৫টি গরু, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে শাহেনারা নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে দূর্বাকান্দা গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধ, গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বর্তমান ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম ও সোহেল মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর পুলিশের ভয়ে সোহেল মিয়ার পক্ষের পুরুষ সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় বাড়িতে নারী ও শিশুরা অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে সাইদুল ইসলাম পক্ষের লোকজন ২৩টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্রের পাশাপাশি বাড়ির বাইরে থাকা বিভিন্ন সম্পদও ভাঙচুর করেন। সোহেল মিয়ার পক্ষের এক ব্যক্তির পাড়ে রাখা নৌকা এবং হালচাষের কাজে ব্যবহৃত টিলার ভেঙে দুমড়েমুচড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘরে থাকা ফ্রিজ, চেয়ার, আলমারি, পালঙ্ক, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় ১৫টি গরু নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। পরিবারের নারী সদস্যদের অভিযোগ, আফিয়া, জমিরুন ও গুলজাহানের আলমারিতে সংরক্ষিত নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২৩টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
তাঁদের অভিযোগ, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের সময় বাধা দিতে গেলে শাহেনারা নামে এক নারী গুরুতর আহত হন। বাড়িতে পুরুষ সদস্যরা না থাকায় নারী ও শিশুরা অসহায় অবস্থায় পড়েন।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল মিয়া, সাইকুল মিয়া, জাহিদ হাসান, ইলিয়াছ মিয়া, লাল মিয়া, হারিছ মিয়া, সুরুজ আলী, এলকাছ মিয়া, ইব্রাহীম কামাল মিয়া, ইব্রাহীম, লায়েছ মিয়া, শহীদ মিয়া, কাদের মিয়া, আলাল মিয়া, জামাল মিয়া, ইকবাল মিয়া, কায়ূম মিয়া, শাহজাদা, আইজা হুসেন, মালেক মিয়া, মতিন মিয়া, জাকির হুসেন, মুহাম্মদ, রায়হান ও বোরহান মিয়াসহ আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা হলেন রাজন, পালিশ, শামসু, সাইদুল, মুসলিম, জয়নাল, আলকাব, ইস্কু, শহীদ, লিটন, রেজুয়ান, শাহ আলম, জসীম, শাহীনুর, রিয়াজ, গিয়াস, জলিল, খলিল ও আকাশসহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগের বিষয়ে সাইদুল ইসলাম পক্ষের বক্তব্য জানতে তাঁদের বাড়িতে গেলে ঘটনার পর পুরুষ সদস্যদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যরা জানান, পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংঘর্ষের পর নতুন করে বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দূর্বাকান্দা গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, আহত শাহেনারার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST