লক্ষ্মীপুর জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সূর্যমুখীর হলুদ আভা। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই বাতাসে দুলছে থালার মতো বড় বড় ফুল। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের পাশাপাশি কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তি ও আশার হাসি।
চলতি ২০২৫-২০২৬ রবি মৌসুমে জেলায় সূর্যমুখীর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় জেলার শত শত কৃষক সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ জানান, এ মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ১২৩ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০ হেক্টর, রায়পুরে ৩০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৬ হেক্টর, রামগতিতে ২২ হেক্টর এবং কমলনগরে ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সেচ ব্যবস্থা এবং পরিমিত সারের ব্যবহারে প্রতিটি গাছে বড় ও স্বাস্থ্যবান ফুল এসেছে। সরকারি উদ্যোগে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে ও ফলন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি একর জমিতে ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে, যা থেকে প্রায় ১২ মণ তেল উৎপাদন সম্ভব। তেল ছাড়াও সূর্যমুখীর খৈল মাছ ও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—ফলে এটি একটি বহুমুখী ফসল হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চাষি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “এ বছর ২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিসের পরামর্শে এই চাষ শুরু করি। ফলন দেখে আমি সত্যিই অবাক—খরচ কম, লাভ বেশি।”
রামগতি উপজেলার চাষি করিম বলেন, “শখের বশে চাষ শুরু করলেও এখন এটি লাভজনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ আমাদের খেতে এসে ভিড় করছে, ছবি তুলছে। আগামী বছর চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
রায়পুর উপজেলার চাষি আবদু রব মিয়া বলেন, “সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় সূর্যমুখী এখন আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এই ফসল ঝড়-বাদলেও টিকে থাকে এবং এর প্রতিটি অংশই কাজে লাগে।”
কম পরিশ্রমে বেশি লাভ এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে সূর্যমুখী চাষ লক্ষ্মীপুরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং বিকল্প ভোজ্যতেলের উৎস হিসেবে এই চাষ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST