নেত্রকোণায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্যসহ একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। এসময় চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে চালক ও হেলপারকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম জেলা শহরের রাজুর বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্ত এলাকা কলমাকান্দা থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন পিকআপ ভ্যানকে থামানোর সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ধাওয়া করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে গাড়িটি আটকাতে সক্ষম হয়।
এ সময় তল্লাশি চালিয়ে পিকআপ ভ্যানটি থেকে ৪০ বস্তা ভারতীয় ফুচকা এবং ২৬ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপ ভ্যানসহ চালক ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি পুলিশের এসআই জলিল, এসআই সৈকত এবং এএসআই আবুল কালামসহ সঙ্গীয় ফোর্স। জব্দকৃত মালামাল বর্তমানে ডিবি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এদিকে এই অভিযানের পর স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকা বর্তমানে চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট বা ‘আঁতুড়ঘরে’ পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, কলমাকান্দা থেকে শুরু করে বারহাট্টা, সদর ও কেন্দুয়া পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কারবার চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাকারবারি জানান, সীমান্ত থেকে মালামাল গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিটি পয়েন্টে বা থানায় নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা বা ‘লাইন খরচ’ দিতে হয়। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারবার এভাবেই অবৈধ মালামাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কেবল মাঝেমধ্যে ছোটখাটো চালান আটক করলেই হবে না; বরং এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং এর নেপথ্যে থাকা মদতদাতাদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST