মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৭:০০ থেকে নৌপুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ডহুরী খাল এবং খিদিরপাড়া-নরসিংহপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫টি বলগেট ও একটি ড্রেজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের অভিযন সূত্রে জানা যায়, ডহুরী খালে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু বহনে ব্যবহৃত ৫টি বলগেট আটক করা হয়। আটককৃত বলগেটগুলো হলো— এমবি মান্নান-১, এমবি মদিনা মনস, আলহাজ এ রহমান, Amade Top-2 এবং এমবি সরকার এন্টারপ্রাইজ।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বলগেটগুলোর চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেগুলো টঙ্গীবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভিড়িয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পরে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বলগেটগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এদিকে একই দিনে খিদিরপাড়া-নরসিংহপুর এলাকায় প্রায় ৪ একর জমিতে পকেট কেটে অবৈধভাবে বালু ভরাটের অভিযোগে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে প্রশাসন ড্রেজার মেশিন চালু অবস্থায় পেলেও অভিযুক্ত ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
তবে ঘটনাস্থল থেকে ড্রেজারসহ আনুষঙ্গিক সব যন্ত্রপাতি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনা করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান। এ সময় নৌপুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি (মিতু) বলেন- যেহেতু বাল্কহেড গুলো সদর উপজেলার পঞ্চসার হয়ে তালতলা (সিরাজদিখান), বালিগাও (টংগিবাড়ী) এবং ডহুরী (লৌহজং) হয়ে বের হয়ে যায়। সুতরাং এককভাবে এক উপজেলার পক্ষে এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কষ্টসাধ্য। যেহেতু ৪ উপজেলায় বিদ্যমান তাই জেলার সমন্বয় সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়ে আসলে ফলপ্রসূ হবে।
এছাড়া নৌপুলিশকে তাদের স্বাভাবিক টহল অব্যাহত রাখার জন্য বলা হয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST