একটি গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয় এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ।
কিন্তু আজও যখন প্রতিপক্ষ দমন, রাজনৈতিক বিরোধিতাকে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে সত্যিকার পরিবর্তনটা কোথায়?
যে ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানুষ রাজপথে নেমেছিল, সেই একই ধরনের প্রবণতা যদি নতুন বাস্তবতায় আবারও দেখা যায়, তাহলে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে!! সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
ক্ষমতার পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হয়, যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন ঘটে। প্রতিপক্ষের মতপ্রকাশের অধিকার, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে কেবল ক্ষমতার পালাবদলকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বলা কঠিন কিন্তু কেন??
২৪-এর সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান মানুষের কাছে একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। সেই প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখাতে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, প্রয়োজন ন্যায়বিচার; দমন নয়, প্রয়োজন সহনশীলতা; আর ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, প্রয়োজন জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা।
আফসোস, এত বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ছায়া ফিরে আসে, তাহলে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST