ভারতের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কাছে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ জিম্মি হতে পারে না’ মর্মে কড়া বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার নাহিদ ইসলাম।
ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে ঢাকা থেকে তিনি এই বিবৃতি দেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাহিদ বলেন, এই লড়াই কেবল ভারতের তরুণদের নয়; জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে বন্ধু হিসেবে ঢাকা তাদের পাশে আছে।
বিবৃতিতে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করেন তিনি। নাহিদ উল্লেখ করেন, ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে সেই লড়াইয়ে রাষ্ট্র সরাসরি গুলি চালিয়েছিল এবং জাতিসংঘের হিসাবমতে প্রায় ১,৪০০ মানুষ শহীদ হন। সেই কঠিন সময়ে ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যেভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেন। শাহিনবাগের নারীদের দীর্ঘ লড়াই এবং জেএনইউ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যের প্রশংসা করে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের মতোই ভারতের বর্তমান আন্দোলনে নারীদের সাহসিকতা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।
রাজনৈতিক ও আদর্শিক ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ এবং যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ কখনোই দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। ভারত কিংবা বাংলাদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ জোর দিয়ে বলেন, সংখ্যালঘুরা ভয়ে থাকলে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলে এবং নাগরিকত্ব পরিচয়ের ওপর শর্তযুক্ত হলে কোনো সমাজই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
ভারতের কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, আটককৃত সংগঠক ও আন্দোলনকারীদের আইনি ভিত্তি প্রকাশ করে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে শারজিল ইমাম ও উমর খালিদসহ বিনা বিচারে বন্দী তরুণ নেতাদের ‘বিবেক বন্দী’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের সাহসিকতাকে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন। সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর কথা তুলে ধরে সমতাভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নাহিদ ইসলাম। বিবৃতির সমাপ্তিতে তিনি ভারতের আন্দোলনকারীদের অবিচল থেকে একে অপরকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই সমর্পণ করা যাবে না। সবশেষে তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে ভারতের তরুণদের প্রতি নিজের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST