কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে শয্যা রয়েছে মাত্র ১৯টি। অথচ এই নামমাত্র শয্যায় প্রতিদিন নিয়মিত ভর্তি থাকছেন ১৪০ থেকে ১৫০ জন রোগী। তদুপরি রোগীর স্বজনদের ভিড় মিলিয়ে হাসপাতালে সবসময় ৪ থেকে ৫শ মানুষের সমাগম ঘটছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ, ওষুধ ও জনবল সংকটে চরম বেকায়দায় পড়েছে নেছারাবাদ উপজেলার সরকারি হাসপাতালটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯ শয্যার বিপরীতে এত বিপুল পরিমাণ রোগী ভর্তি থাকায় ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ডেঙ্গু, হাম, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টের মতো বিভিন্ন সংক্রামক ও জটিল রোগের রোগীরা এক কক্ষে বা আলাদা রুমে চিকিৎসা পাওয়ার ন্যূনতম সুযোগ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ফ্লোর এমনকি হাঁটার পথেও বেড বসাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডাক:আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতালে ডায়েট বা খাবার বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৪৭ জন রোগীর জন্য। কিন্তু রোগীর সংখ্যা তিন থেকে চারগুণ বেশি থাকায় সবাইকে খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে, যে পরিমাণ ওষুধ বরাদ্দ আসে তা দিয়ে বড়জোর ৪০ থেকে ৪৭ জন রোগীকে দেওয়া যায়। ফলে বাকি দেড়শ রোগীর বড় একটি অংশই প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রতিটি রোগীর সঙ্গে গড়ে ২ থেকে ৩ জন স্বজন অবস্থান করায় এবং চার-পাঁচশ মানুষের চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালের ওয়াশরুম ও বাথরুমগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বাথরুম ব্লক হয়ে যাওয়া, ট্যাপ নষ্ট হওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা জমে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ রয়েছে চাহিদার ২৫ শতাংশেরও কম।
চিকিৎসক পদের ক্ষেত্রেও রয়েছে তীব্র সংকট। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অর্ধেকের বেশি শূন্য রয়েছে। কনসালটেন্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ পূরণ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য মেডিকেল অফিসারের ক্ষেত্রে তা রয়েছে ৫০ শতাংশ।
হাসপাতালের এই করুণ দশা এবং সংকটের বিষয়টি ইতিপূর্বে একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অত্র আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন এবং দ্রুত হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে নতুন ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ইউএইচও জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST