জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীতে জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এক বিশাল সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চর বেনীনগর কালিতলা সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে সদর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এই সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সরদার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি জানান, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা নদীসহ সারাদেশের নদ-নদীতে মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। সরকারি এই আইন অমান্য করে প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকার করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের নেতা মো. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম এবং মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. ইদ্রিস খান প্রমুখ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “আজকের মা ইলিশ রক্ষা পেলে আগামীতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা চূড়ান্তভাবে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়েরই ভাগ্য পরিবর্তন ও জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন করবে।” তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়টিতে সকল মৎস্যজীবীকে সাময়িক প্রলোভন ত্যাগ করে প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান তারা।
একই সাথে, নিষেধাজ্ঞা পালনকালীন সময়ে যাতে প্রকৃত কোনো জেলে খাদ্য সংকটে না পড়েন, সেজন্য সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত সকল মৎস্যজীবীদের মাঝে নির্ধারিত মানবিক সহায়তা ও ভিজিএফ-এর খাদ্য সামগ্রী সঠিকভাবে পৌঁছানোর আশ্বাস প্রদান করা হয়।
উক্ত সচেতনতা সভায় স্থানীয় কালিতলা, চর বেনীনগর ও আশপাশের নদীকূলীয় এলাকার শত শত মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিক এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত জেলেরা সরকারি আইন মেনে চলে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST